দুটি ব্যারাজ একটি নদী

২৮ জুলাই বিকেল চারটেয় কলকাতার ‘আর্থকেয়ার বুক্‌স’-এ মন্থন সাময়িকী পত্রিকা আয়োজিত সভায় ‘তিস্তা নদীর জল বন্টন’ প্রসঙ্গে আলোচনা করেন দেবাশিস সেনগুপ্ত। তাঁর আলোচনা প্রবন্ধ আকারে প্রকাশ করা হচ্ছে। সভায় যে কথাবার্তা হয়, তা কিছুটা সম্পাদনা করে প্রশ্নোত্তর আকারে আলাদা প্রকাশ করা হল। উত্তরগুলি দিয়েছেন দেবাশিস সেনগুপ্ত। এছাড়া, দেবাশিস সেনগুপ্তের প্রবন্ধ ই-মেল করে আলোচনার জন্য কিছু মানুষকে পাঠানো হয়েছিল। সেই সূত্রে মোঃ খালেকুজ্জমান তাঁর একটি প্রবন্ধ এবং মোঃ নুরুল ইসলাম ও ডঃ কিউ আর ইসলাম যুগ্মভাবে তাঁদের লিখিত মন্তব্য পাঠিয়েছেন। এগুলি প্রকাশ করা হচ্ছে। যেহেতু এই বিষয়টি নিয়ে আমরা একটা সংলাপ চালাতে চেয়েছি, তাই দেবাশিস সেনগুপ্ত ই-মেলের মাধ্যমে এঁদের সঙ্গে কথাবার্তা চালাতে থাকেন। সেই সংলাপও কিছুটা সম্পাদনা করে প্রকাশ করা হল। তবে পত্রিকার বর্তমান সংখ্যা প্রকাশের তাগিদ থেকে এখানে আমাদের আপাতত থামতে হয়েছে। আশা করি, সংলাপে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিগণ এবং পাঠকেরা তাঁদের মতামত ব্যক্ত করে এই আলোচনাকে এক সদর্থক অভিমুখে নিয়ে যেতে উদ্যোগী হবেন।#

tista-debasis

ডিভিসি ও ফরাক্কার পর পশ্চিমবঙ্গের তৃতীয় বড়ো নদী পরিকল্পনা হল তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প$ তিস্তা নদীর উৎপত্তি সিকিমের কাংসে হিমবাহের মুখ থেকে$ দক্ষিণমুখী হয়ে সিকিমে ১৫১ কিলোমিটার এবং পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত বরাবর ১৯ কিলোমিটার চলে এটি পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে$ সেখান থেকে জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলার ওপর দিয়ে আরও ১২৩ কিলোমিটার এগিয়ে বুড়িগ্রামের কাছে বাংলাদেশে ঢোকে$ তারপর ১২১ কিলোমিটার যাত্রা করে চিলমারির কাছে যমুনা বা ব্রহ্মপুত্রে গিয়ে মেশে (চিত্র ১)$ এই নদী অববাহিকার বিস্তৃতি প্রায় ১২,৩৭০ বর্গ কিলোমিটার$ এর মধ্যে বাংলাদেশে আছে ১৬.৫ শতাংশ, সিকিমে ৫৬.৯ শতাংশ, বাকি ২৬.৬ শতাংশ পশ্চিমবঙ্গে$ কিন্তু অববাহিকার প্রায় অর্ধেক মানুষ থাকে বাংলাদেশের অংশে$ ওই এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ$ ২০০১ সালের আদমসুমারি অনুযায়ী সেখানে জনবসতি ছিল প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৯৪০ জন, আর পশ্চিমবঙ্গের অংশে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৪৪৯ জন$ তখন সিকিমের অংশে জনবসতি ছিল প্রতি বর্গ কিলোমিটারে মাত্র ৭৭ জন$

তিস্তা অববাহিকা : এক নজরে

বরফগলা জল ও বৃষ্টিজল দুইই তিস্তা নদী দিয়ে বয়ে যায়$ বৃষ্টিজলের পরিমাণ বেশি, তবে বছরের কয়েকটা মাস প্রবাহের সিংহভাগ আসে বরফগলা জল থেকে$ প্রবাহ সারা বছর সমান থাকে না$ ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় আগস্ট মাসের প্রবাহ প্রায় পনেরো গুণ$ উত্তরবঙ্গে তিস্তার জল যে শুধু মাটির ওপর দিয়ে বয়ে যায় তা নয়, মাটির নিচে দিয়েও একটি ধীর প্রবাহ আছে$ দার্জিলিঙের সেবক অঞ্চলে, যেখানে পাহাড় থেকে সমতলে এসে পড়ার পর তিস্তা বিনুনির মতো কয়েকটি ধারা রচনা করেছে, সেখানে চওড়া নদীখাত পাথর, নুড়ি ও বালি দিয়ে গঠিত হওয়ায় নদীর জল দ্রুত চুঁইয়ে নিচে চলে যায়$ মাটির তলা দিয়ে ধীরে ধীরে প্রবাহিত সেই জল আবার ভাটির দিকে নদীর স্রোতে গিয়ে মেশে$ তবে এই জলের পরিমাণ নিয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই$

রাজ্য বা দেশ

নদীর দৈর্ঘ্য

অববাহিকার বিস্তৃতি

জনসংখ্যা (২০০১)

জনবসতির ঘনত্ব (২০০১)

কিলো

মিটারে

শতাংশে

বর্গ কিলো

মিটারে

শতাংশে

সংখ্যায়

শতাংশে

সংখ্যা প্রতি বর্গ কিমিতে

সিকিম

১৫১

৩৬.

৭০৩৯

৫৬.

৫৪০,৪৯৩

১৩.

৭৭

সিকিমপশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত

১৯

.

পশ্চিমবঙ্গ

১২৩

২৯.

৩২৯৪

২৬.

,৪৭৭,৪৯৫

৩৭.

৪৪৯

বাংলাদেশ

১২১

২৯.

২০৩৭

১৬.

,৯১৪,৯০৯

৪৮.

৯৪০

মোট

৪১৪

১০০.

১২৩৭০

১০০.

,৯৩২,৮৯৭

১০০.

৩১৮

১৯৭৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তর উত্তরবঙ্গের ছটি জেলার ৯.২২ লক্ষ হেক্টর কৃষিজমিতে জল সরবরাহ করবার পরিকল্পনা গ্রহণ করে$ সেই উদ্দেশ্যে নির্মিত তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পে সেচ ছাড়াও ১০০০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলা হয়েছিল$ প্রকল্প অনুযায়ী জলপাইগুড়ি জেলার গাজলডোবায় তিস্তার ওপর একটি ব্যারাজ তৈরি হয়$ ব্যারাজের উজানের জলাশয় থেকে নদীর ডান (পশ্চিম) দিকে বেরিয়েছে তিস্তামহানন্দালিঙ্কক্যানাল (টিএমএলসি), আর বাম (পূর্ব) দিকে বেরিয়েছে তিস্তাজলঢাকামেইনক্যানাল (টিজেএমসি)$ ব্যারাজ ১৯৯৩ সালে চালু হয়ে গেলেও খাল দুটি চালু হয় যথাক্রমে ১৯৯৭ ও ২০১২ সালে$ টিএমএলসির জল গিয়ে পড়ে মহানন্দা নদীতে, সেখানে ফুলবাড়িতে আর একটি ব্যারাজের সাহায্যে মহানন্দা মেইন ক্যানালে জল পাঠানোর ব্যবস্থা আছে$ স্থির হয়েছিল, প্রকল্পটি তিন পর্যায়ে (স্টেজ) সম্পূর্ণ করা হবে$ প্রথম স্টেজের আবার দুটি অংশ (সাবস্টেজ) আছে$ প্রথম সাবস্টেজ, যাতে ৩.২ লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচের সংস্থান আছে, তা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি$ চিত্র ২এ প্রথম সাবস্টেজ এলাকার আংশিক নকশা দেখানো হল$ সরকারি হিসেব মতে টিএমএলসির মাধ্যমে ৪০,০০০ হেক্টর জমি ও টিজেএমসির মাধ্যমে ৮,০০০ হেক্টর জমি এযাবৎ সেচের আওতায় এসেছে$ মহানন্দার পশ্চিম প্রান্ত থেকে যে খাল বেরিয়েছে, সেই মহানন্দা মেইন ক্যানালের তিন জায়গায় কৃত্রিম জলপ্রপাতের সাহায্যে তিনটি জলচালিত টারবাইন ঘুরিয়ে মোট ৬৭.৫ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা হয়েছে এখন পর্যন্ত$

মূল পরিকল্পনার বাইরে আর একটি কাজ করে থাকে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প$ সেটি হল শিলিগুড়ি পুরসভাকে দৈনিক ২৬,০০০ ঘনমিটার জল সরবরাহ, যা টিএমএলসির থেকে পাম্পের সাহায্যে করা হয়$ এই পরিমাণ বাড়িয়ে দৈনিক ৫৫,০০০ ঘনমিটার করার পরিকল্পনা আছে$ তবে সেচের জন্য ব্যবহার করা জলের তুলনায় এই পরিমাণ সামান্য$

বাংলাদেশ সরকার ১৯৯০ সালে লালমণিরহাট জেলার দোয়ানীতে তিস্তার ওপর একটি ব্যারাজ নির্মাণ করে, .৪৯ লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচের উদ্দেশ্যে$ প্রথম পর্যায়ে ১.১১ লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচের জল পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে$

তিস্তার জল নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিবাদ চলছে বহুদিন ধরে$ ভারত ও বাংলাদেশ সরকার উভয়েই চায়, জল যতটা সম্ভব সরিয়ে ফেলা হোক নদী দোয়ানী ব্যারাজ পেরিয়ে যাওয়ার আগে$ সেই কর্মটি গাজলডোবা ব্যারাজে কতখানি করা হবে আর কতখানি দোয়ানীতে, বিবাদ শুধু তাই নিয়ে$ বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য, শুখা মরশুমে গাজলডোবা ব্যারাজে জলের দিক বদল করলে দোয়ানী ব্যারাজে জল কমে যায়, তাই জল ভাগাভাগির জন্য একটা চুক্তি হোক$ পশ্চিমবঙ্গ সরকার এযাবৎ বলে এসেছে, গাজলডোবা ব্যারাজে শুখা মরসুমে যে জল পাওয়া যায়, তা সেচের জন্য যথেষ্ট নয়; এই অবস্থায় চুক্তি করে বেশি জল ছাড়তে গেলে চাষিদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে$ ওদিকে ভারত সরকার চায় মিটমাট করে একটা চুক্তি করতে$

তিস্তা নদী থেকে যেটুকু জল পাওয়া যায় তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার তো সন্তুষ্ট নয়ই, পশ্চিমবঙ্গ সরকারও নয়$ ব্যারাজ প্রকল্প করে প্রত্যাশা মেটেনি কারো$ দুটি প্রকল্পের ভগ্নাংশ মাত্র রূপায়িত হতেই জলাভাব দেখা যাচ্ছে$ এই অবস্থায় প্রকল্প দুটি সম্পূর্ণ করা অর্থহীন হবে বলে মনে হচ্ছে$ স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, জলের এতখানি অভাব হল কী করে?

তিস্তা নদী দিয়ে বছরের বিভিন্ন মাসে গড়ে যেপরিমাণ জল ভারতবাংলাদেশ সীমানা (বুড়িগ্রাম) অতিক্রম করে, তার একটা আনুমানিক হিসাব লেখচিত্র আকারে দেওয়া হল চিত্র ৩$ এই হিসাবে ধরে নেওয়া হয়েছে, উজান থেকে আসা সবটুকু জলই ব্যারাজ দিয়ে বয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে$ গাজলডোবায় (যা বুড়িগ্রাম সীমান্ত থেকে ৭২ কিলোমিটার উজানে) তিস্তার প্রবাহ এর থেকে কিছু কম, আর ভাটিতে অবস্থিত দোয়ানীতে প্রবাহ কিছু বেশি হতে পারে$ দেখা যাচ্ছে, তিস্তা দিয়ে যে জল বয়ে যায়, তার বেশিরভাগটা যায় বর্ষার সময়ে$ আবার ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত নদীতে জল বয় গড়ে ২০০ কিউমেক বা তারও কম$

বাঁধ যেমন জলাশয়ে অনেকখানি জল ধরে রাখতে পারে, ব্যারাজ তেমন পারে না$ ব্যারাজ শুধু জলের প্রবাহে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করে, যাতে জলতল একটু উঁচু হয় এবং সেই সুবাদে তাকে পাশের খাল দিয়ে বইয়ে দেওয়া যায়$ কতটা জল নদী দিয়ে যাবে আর কতটা খাল দিয়ে বওয়ানো হবে তা গেটের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা যায়$ কিন্তু বর্ষার জল ধরে রেখে শীত বা গ্রীষ্মের দিনগুলিতে ব্যবহার করা যায় না$ ব্যারাজের জলাশয় বাঁধের জলাশয়ের চেয়ে অনেক ছোটো$ তাতে কয়েক ঘণ্টার জল ধরে রাখা যায়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না$

তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের সেচসেবিত এলাকায় প্রধান ফসলগুলির মধ্যে (চা ছাড়া) আছে আমন ধান, আউশ ধান, পাট, গম, আলু ও ভুট্টা$ দক্ষিণবঙ্গের হিসাবে আমন ধানের চাষে জল লাগে এক মিটারের কিছু বেশি, বাকিগুলিতে আধ মিটারের মতো$ আমন চাষের বাড়তি সেচটুকু অবশ্য বর্ষার জলে হয়ে যায় অনেকটা$ দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলার মাটিতে ফাঁকফোকর বেশি বলে জল খেতে দাঁড়ায় না, দ্রুত নিচে নেমে যায়$ একবারের জায়গায় দুবার সেচ করতে হয়$ সেখানে চারমাস ব্যাপী একটি চাষে মিটারখানেক জল লাগে$ অর্থাৎ এক হাজার হেক্টর কৃষিজমির সেচের সবটা প্রয়োজন মেটাতে এক কিউমেক জল দরকার হতে পারে$ খালের উৎস থেকে জমি পর্যন্ত জল নিয়ে যেতে ভারতবর্ষে যে অপচয় হয়, তার গড় হিসাব (৬০ শতাংশের মতো) ধরলে এই পরিমাণ দাঁড়ায় প্রতি হাজার হেক্টরে প্রায় আড়াই কিউমেক$ ২০১১ সাল পর্যন্ত টিজেএমসি খাল চালু হয়নি, সেচ হয়েছিল টিএমএলসির আওতায় থাকা ৪০,০০০ হেক্টর জমিতে$ তার জন্য ১০০ কিউমেকের মতো জল লাগার কথা$ বাস্তবে প্রায় এতখানি জলই সরানো হয়ে এসেছে নদী থেকে$

বর্ষার সময় নদীতে এই জলের অভাব নেই$ মজার কথা হল, ২০১১ সাল পর্যন্ত বছরের কোনো সময়েই ১০০ কিউমেকের বেশি জল টিএমএলসি দিয়ে বয়নি (চিত্র ৪)$ নদীতে যথেষ্ট জল থাকলেও খালের বহনক্ষমতা (৪১৫ কিউমেক) পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি$

চল্লিশ হাজার হেক্টর জমির সেচ সামলাতে যদি ১০০ কিউমেক জলের দরকার হয়ে থাকে, তাহলে তিস্তা ব্যারাজের দুই প্রান্তের দুটি খালের সর্বোচ্চ বহনক্ষমতা (মোট ৫২০ কিউমেক) ব্যবহার করে বড়ো জোর দুই লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচ হওয়া সম্ভব$ প্রশ্ন হল, প্রকল্পের প্রথম স্টেজের প্রথম সাবস্টেজের ৩.৪২ লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচের প্রয়োজন তিস্তা ব্যারাজ মেটাবে কীভাবে? আর মূল পরিকল্পনা ৯.২২ লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচের জন্য ঐকিক হিসাবে যে ২৩০০ কিউমেক জল লাগার কথা, সে জল তো নদীতে বর্ষাকালেও থাকে না$

নদীতে যখন সবচেয়ে বেশি জল থাকে, সেই সময়ে খালপথে জল সরানো হয়েছে সবচেয়ে কম$ খরিফ মরসুমে খালযোগে যে জল সরবরাহ করা হয়ে এসেছে, তার চাহিদা কতটা ছিল তা স্পষ্ট নয়$ সরকারি হিসাব মতে, জলপাইগুড়ি জেলায়, যেখানে সেচের সুবিধা সবচেয়ে বেশি পৌঁছেছে, সেখানে ১৯৯৪৯৫ থেকে ২০০৭০৮ সালের মধ্যে খালের সেচসেবিত জমির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় তিরিশ হাজার হেক্টর, কিন্তু খরিফ চাষের এলাকা ওই পর্বে কমেছে কুড়ি হাজার হেক্টর$ জলপাইগুড়ি জেলায় বর্ষায় যা বৃষ্টি হয় তা পশ্চিমবঙ্গের গড় মাত্রার দ্বিগুণ$ তাই বর্ষাকালে খাল থেকে সেচের প্রয়োজন কম হওয়াটা আশ্চর্যের নয়$ কিন্তু খরিফ চাষের সঙ্কোচন কিছুটা আশ্চর্যের$ তিস্তা ব্যারাজের খালগুলি কাটা হয়েছে পুবপশ্চিমে, জমির ঢালের সঙ্গে আড়াআড়ি ভাবে$ খালের পাড় উঁচু করে বাঁধানো হওয়ায় তার উত্তর দিকের জমিতে বর্ষায় জল দাঁড়িয়ে খরিফ চাষে অসুবিধা হয়ে থাকতে পারে$ মোটের ওপর এটা পরিষ্কার যে, প্রধানত খরিফ চাষে সহায়তার উদ্দেশ্যে গৃহীত এই প্রকল্পে খরিফ চাষের বিশেষ সুবিধা হয়নি প্রকল্পসন্নিহিত এলাকায়$ সম্ভবত এই কারণেই ১৯৭৬ সালে প্রকল্পের উদ্যোগ শুরু হওয়ার পর থেকে মূল পরিকল্পনার সাপেক্ষে মাত্র পাঁচ শতাংশ জমি সেচের আওতায় আনা গেছে$ প্রকল্প যেটুকু হয়েছে তার থেকে সুবিধা না মেলার ফলে সেচ এলাকা সম্প্রসারণের জন্য নতুন জমি অধিগ্রহণ করা মুশকিল হয়ে থাকতে পারে$

১৯৯৪৯৫ থেকে ২০০৭০৮ সালের মধ্যে জলপাইগুড়ি জেলায় খাল থেকে সেচের সবচেয়ে বেশি প্রসার হয়েছে রাজগঞ্জ ও জলপাইগুড়ি সদর ব্লকে$ এই পর্বে এই দুটি ব্লকে রবি (শীতকালীন) চাষের এলাকা হাজার দুই একর বেড়েছে$ তবে যে চাষের এলাকা লাফিয়ে বেড়েছে তা হল বোরো ধান$ ব্লক দুটিতে বোরো চাষ আদৌ হত না, সেখানে তেরো হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে বোরো চাষ হতে দেখা গেছে ওই পর্বের শেষে$ এই শস্যের মেয়াদ জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস অবধি যখন মাটি সবচেয়ে শুকনো থাকে$ পুরোপুরি সেচনির্ভর এই চাষে জল লাগে রবিশষ্যের তিনগুণ$ খালের জলের সদ্ব্যবহারের জন্য কৃষি দপ্তর থেকে চাষিদের বোরো চাষে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল$ ঐকিক নিয়মে দেখা যাচ্ছে, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে তিস্তা নদীতে যত জল থাকে, তা দিয়ে বড়ো জোর রাজগঞ্জ ও জলপাইগুড়ি সদর ব্লকে ২০০৭০৮ সালের মাপে বোরো চাষ হতে পারে, তার বেশি নয়$ এলাকা বাড়াতে গেলে জলাভাব হবে$

২০১১ সাল অবধি ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত তিস্তা প্রকল্পের খালযোগে গড়ে ৮০ কিউমেকের কাছাকাছি জল সরবরাহ করা হয়ে এসেছে (চিত্র ৪), সবটাই টিএমএলসির মাধ্যমে$ বলা বাহুল্য, চাষের জন্য তা যথেষ্ট হয়নি$ বিকল্প সেচের জন্য ভূগর্ভের জলে হাত পড়েছে$ এই রকম ঘটনা ডিভিসির সেচসেবিত এলাকায় আগেই দেখা গেছে$ এখন তিস্তা অববাহিকাতেও এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে$ ১৯৯৭ সালে টিএমএলসি চালু হওয়ার পর থেকে ২০১০ সালের মধ্যে গাজলডোবা ব্যারাজ সন্নিহিত চারটি ব্লকে নভেম্বর ও জানুয়ারি মাসের জলস্তর নেমে গেছে একথা পশ্চিমবঙ্গ জল অনুসন্ধান বিভাগের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে$ কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্টেও এর সমর্থন মিলেছে$ এর মধ্যে দুটি ব্লক (রাজগঞ্জ ও জলপাইগুড়ি সদর) তিস্তার পশ্চিম তীরে, দুটি (মাল ও ময়নাগুড়ি) পূর্ব তীরে$ পশ্চিম তীরের সেচের জন্য ভূগর্ভের জলে টান পড়ে থাকবে$ পূর্ব তীরের ব্লকগুলিতে খালের সেচ ওই পর্বে চালু হয়নি$ তবে ব্যারাজ থেকে জল সরিয়ে নেওয়ার ফলে নদীর মূল খাতে জল কম বয়েছে এই ঘটনার সঙ্গে জলস্তর নেমে যাওয়ার যোগ থাকতে পারে$

জলবিদ্যুৎ নিয়ে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের অভিজ্ঞতা সুখের নয়$ উৎপাদন ব্যবস্থা তিস্তা নদী থেকে বহু দূরে মহানন্দা মেইন ক্যানালে$ খালে জল থাকলে তবেই টারবাইন ঘুরবে$ মহানন্দা নদীতে শীতকালে জল থাকে না$ সেচের জলের চাহিদা তখন এত বেশি যে সেচ না করে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য খালে জল পাঠানো প্রায় অসম্ভব$ সেচের জল তিস্তা থেকে মহানন্দা পৌঁছানোর আগেই অনেকটা ব্যবহার করে ফেলা হয়$ সব মিলিয়ে, বর্ষার কয়েক মাস ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ নেই বললেই চলে$ কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, তিনটি কেন্দ্রে ২০০৬০৭ সালে মোট ৩.৪ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়েছে$ এই পরিমাণ হল সারা বছরে মোট একুশ দিন পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের সমান$১০ একুশ দিন হল বছরের ছয় শতাংশেরও কম$ এক একটি কেন্দ্র স্থাপন করতে কম অর্থব্যয় হয় না$ সেগুলি চালু রাখার খরচও আছে$ এত অল্প উৎপাদন করে খরচ ওঠে না$

৬৭.৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার ছয় শতাংশও যখন কাজে লাগানো যায়নি, ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চয় ছিল একটি অবাস্তব স্বপ্ন$

তিস্তা প্রকল্পে শুখা মরসুমে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ থেকে বিপুল পরিমাণ জল সরিয়ে ফেলা হয় প্রকৃতি বা পরিবেশের তোয়াক্কা না করে$ পরিবেশঅনুকূল প্রবাহের সংস্থান রাখা হয় না$ মনে করা হয়, নদীর জলকে সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশে বয়ে যেতে দিলে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা হবে$ কিন্তু ঘটনা হল, গাজলডোবা ব্যারাজে প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয় বাংলাদেশের সীমানা থেকে অনেকটা উজানে$ গাজলডোবা ব্যারাজ থেকে অনেকখানি জল সরিয়ে ফেললে সেখানে নদীটি যত শীর্ণ হয়ে পড়ে, আরও ভাটির দিকে প্রভাব ততখানি পড়ে না$ গাজলডোবা থেকে দোয়ানী পর্যন্ত যাত্রাপথে নদী আবার কিছুটা ভরে ওঠে$ গাজলডোবা ব্যারাজ সন্নিহিত অঞ্চলে এই জোগানের সুযোগ নেই$

তিস্তা নদী উত্তরবঙ্গের প্রাণস্বরূপ$ নদী শুধু পলি সংবহন ও ভূগর্ভের জলস্তরকে পুষ্ট করে না, অববাহিকার গোটা বাস্তুতন্ত্র নদীকে ঘিরেই সাম্যে থাকে$ মানুষ সেই বাস্তুতন্ত্রের বাইরে নয়$ ভূগর্ভের জলস্তর নেমে যাওয়ার ঘটনা সেই বাস্তুতন্ত্রের সাম্য বিঘ্নিত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়$ এই প্রবণতাকে সামলাতে না পারলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়তে পারে গাজলডোবার ভাটিতে তিস্তা অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষজন$ ২০১১ সালের আদমসুমারি অনুযায়ী তিস্তা অববাহিকার পশ্চিমবঙ্গের অংশে মোট ১৬,৭৪,৮৬৪ জন বাস করে$ তাদের মধ্যে ১৫,২৩,৭৩০ জন বাস করে গাজলডোবা ব্যারাজের ভাটিতে$১১ ব্যারাজ থেকে বুড়িগ্রামের মধ্যে তিস্তা নদীটি শুকিয়ে গেলে এবং ভূগর্ভের জলস্তর নামতে থাকলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এরাই$ ভূগর্ভের জলস্তর ক্রমাগত নেমে যাওয়ার ঘটনা যেমন একদিনে হয় না, তেমনি এই সমস্যার কোনো চটজলদি সমাধানও নেই$ দক্ষিণবঙ্গে অনেক জায়গায় এই বিপদ এখনই উপস্থিত; তিস্তা অববাহিকায় নোটিশ এসে গেছে$

২০১১ সাল পর্যন্ত তিস্তার পশ্চিম দিকে টিএমএলসির মাধ্যমে সেচের সুবিধা পেয়ে এসেছে কিছু চাষি$ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেচ কাজে এসেছে শুধু শুখা মরসুমে$ কিন্তু শুখা মরসুমে তিস্তায় জল বেশি থাকে না$ বর্তমানে যারা সেচের সুবিধা পাচ্ছে, তাদেরও পুরো চাহিদা মিটছে না$ ২০১২ সালে নদীর পূর্ব দিকে টিজেএমসি চালু হওয়ার পর থেকে সেচের ক্ষেত্র যদি বেড়ে থাকে, তা এদের সুবিধা কমিয়েই হয়ে থাকবে$ তাই সুবিধা পাওয়া চাষিদের তালিকায় দুই দিকের চাষিদেরই ধরলে একটু বাড়িয়ে ধরা হবে$ এরা সকলেই তিস্তা ব্যারাজ নিয়ে দীর্ঘদিন স্বপ্ন দেখার পর মাত্র কিছুদিন আংশিক সুবিধা পেয়েছে, আর স্বপ্ন ও বাস্তবের ফাঁক বোজাতে ভূগর্ভের জল ব্যবহার করেছে যথাসম্ভব$ রাজগঞ্জ ও জলপাইগুড়ি সদরের চাষিদের সেচের জল কমিয়ে মাল ও ময়নাগুড়ির চাষিদের সুবিধাভোগী তালিকায় নিয়ে আসার অর্থ হল এরা কেউই প্রকল্প থেকে চাহিদা মতো জল পাবে না, বরং ভূগর্ভের জলের ওপর আরও চাপ বাড়বে$

সব মিলিয়ে, তিস্তার ব্যারাজ থেকে সেচ ও বিদ্যুৎ খাতে উপকার যেটুকু পাওয়া যায় তা দিয়ে প্রকল্পটি চালু রাখার খরচ ওঠে কিনা সন্দেহ, মূলধনী ব্যয় ও মানুষের দুর্ভোগের (জমি অধিগ্রহণ, উচ্ছেদ, জীবিকা হানি ইত্যাদি) উশুল হওয়া তো দূরস্থান$১২ প্রকল্পের যে লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল তা অর্জনযোগ্য ছিল না কখনই$ মাঝখান থেকে শুখা মরসুমের অতিরিক্ত জলনির্ভর চাষে উৎসাহ দিতে গিয়ে ক্রমে সেচের একটি অবাস্তব চাহিদা তৈরি হয়েছে, যার জন্য নদীতে পর্যাপ্ত জল নেই$

বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পটিও একই রকম$ সাড়ে সাত লক্ষ একর জমিকে সেচের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে, কিন্তু শুখা মরসুমে চল্লিশ হাজার হেক্টর জমি সেচ করার মতো জলও তিস্তায় থাকে না$ যেটুকু থাকে তার বারো আনা গাজলডোবায় নদী থেকে সরিয়ে ফেলা হয় বলে আশাভঙ্গ হয় বেশি$ সমস্ত দুর্ভোগের জন্য দায়ী করা হয় ভারত সরকারকে$

তিস্তার জল নিয়ে ভারতবাংলাদেশ বিবাদ হল দুটি অবাস্তব প্রকল্পের ফল$ বিবাদ শুখা মরসুমের জল নিয়ে$ সেই সময় বৃষ্টি না হয় পশ্চিমবঙ্গে, না বাংলাদেশে$ যেটুকু জল নদীতে থাকে, তা মূলত সিকিম থেকে বয়ে আসা বরফগলা জল আর সেখানে ক্ষরণ হয়ে চলা ভূগর্ভের জল$ সেই জল অববাহিকার বাস্তুতন্ত্রকে সাম্যে রাখার পক্ষে যথেষ্ট, কিন্তু যথেচ্ছ সেচ করার পক্ষে নয়$ পরিবেশ নিয়ে কোনো সরকারেরই মাথাব্যথা থাকে না, তারা চায় সেচ সম্বন্ধে নিজ নিজ দেশের চাষিদের আশা জাগাতে$ যে আশা পূরণ হবার নয়, তাকে লালন করলে আখেরে আসে আশাভঙ্গ আর বিদ্বেষ$

যে চিন্তাপদ্ধতি থেকে মনে হয় দেশের স্বার্থ সুরক্ষা করা মানে একটি নদীর অঙ্গ ব্যবচ্ছেদ করা, ভূগর্ভের জলস্তর নেমে যেতে দেওয়া এবং পরিবেশের বিপদ ডেকে আনা, তার থেকে অব্যাহতি পাওয়া দরকার$ শুখা মরসুমে সেচ কমিয়ে বাংলাদেশ সরকার যত জল চেয়েছে, তার চেয়েও বেশি জল তিস্তা দিয়ে বইতে দিলে এই বিপর্যয় রোধ হতে পারে$ তবে সেই জলকে বুড়িগ্রামের সীমান্ত পেরোতে দেওয়াই যথেষ্ট নয়$ বাংলাদেশেও যদি শুখা মরসুমে দোয়ানী থেকে জল বিশেষ না সরানো হয়, তবে নদীর যাত্রাপথ বরাবর পরিবেশঅনুকূল প্রবাহ বজায় থাকবে$ এতে অববাহিকার বাংলাদেশভুক্ত অংশে ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা দূর হবে, সেইসঙ্গে রক্ষা পাবে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত অঞ্চলের জলস্তর$

তিস্তার স্বাভাবিক প্রবাহ ইদানীং আরও এলোমেলো হতে বসেছে নদীর উচ্চ অববাহিকায় একুশটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জেরে। এর কোনো কোনোটি চালু হয়ে গেছে, বাকিগুলির কাজ চলছে। এগুলিতে ছোটো ছোটো বাঁধ ও জলাধার আছে, যাতে এক দিনের মতো জল ধরে রেখে প্রয়োজন মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। যদি অনেকগুলি জলাধারে দিনেরবেলার ঘণ্টা কয়েক জল ধরে রেখে সন্ধ্যাবেলা বেশি চাহিদার সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এক সঙ্গে সেই জল ছাড়া হয়, তাহলে ভাটিতে দিনের একটা সময় জল বইবে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা কম, অন্য সময় বেশি। পরিবেশ অনুকূল প্রবাহ বজায় রেখে বর্ষা মরসুমে সীমিত সেচের ব্যবস্থা করতে চাইলেও অসুবিধা হতে পারে এলোমেলো প্রবাহের জেরে। এক একটি জলাধার থেকে অল্প করে হলেও সব মিলিয়ে অনেকটা জল নষ্ট হবে। তাছাড়া বাঁধ মানেই নদীর স্বাভাবিক গতিপথে একটা বাধা, যার প্রভাব পড়ে পলি সংবহনে, প্রাণীদের গতিবিধিতে, জল মাটির নিচে চুঁইয়ে প্রবেশ করা বা বাষ্প হয়ে উড়ে যাবার ছন্দে। হিমালয়ের এই ভঙ্গুর ও ভুকম্পপ্রবণ অংশে বাঁধ থেকে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থেকেই যায়। তিস্তা ব্যারাজের বেলায় যেমন, এই বাঁধগুলির পরিকল্পনার সময়ও তেমনি কারিগরি ও ব্যবস্থাপনার দিকই প্রধান বিবেচ্য হয়েছে, পরিবেশের বিষয়ে অনুপুঙ্খ নিরীক্ষা বা প্রকাশ্য আলোচনা হয়নি।

নদীর পরিবেশগত দিকগুলির সংরক্ষণ করা মানে জলজ প্রাণীদের স্বার্থকে মানবসমাজের স্বার্থের চেয়ে বড়ো করে দেখা নয়$ মহাবিশ্বে পরিস্থিতির বৈচিত্র্য কল্পনার অতীত, তার প্রায় সবটাই আমাদের সহনসীমার বাইরে$ অনুকূল তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, নানান গ্যাসের ঘনত্ব ইত্যাদির এক নিতান্ত ছোটো পরিসরে মানুষের বাঁচা মরা$ এই অনুকূল পরিসর কোনো সরকারি প্রকল্পের দ্বারা রক্ষিত হয় না$ বরং পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বিচিত্র সব প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় এই পরিসরটুকু রচিত হয় যেগুলি আমরা কিছুটা জেনেছি$ কিন্তু ভালো বুঝে উঠতে পারিনি$ ক্ষুদ্র পলি কণা, অতি ক্ষুদ্র জীবাণুও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়$ আমাদের ক্রিয়াকলাপে যখন এই প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়, পরিস্থিতি যখন আমাদের অনুকূল আর থাকে না, তখন সরকারি বাজেট, মানুষের সম্মিলিত জ্ঞান কোনো কিছুই তার প্রতিবিধান করতে পারে না$

তথ্যসূত্র ও টীকা :

  1. এই রচনার অধিকাংশ তথ্য Rivers of West Bengal – A Status Report (Kalyan Rudra, West Bengal Pollution Control Board, Kolkata, 2011,পৃ. ৪১৪৮ ও ১৮১১৯৬)এ প্রকাশিত হয়েছে$

  2. ২০১১ সালের আদমসুমারিতে ভারতবর্ষের অংশে জনসংখ্যা বেড়েছে মোটামুটি ১৬ শতাংশ, বাংলাদেশের তথ্য পাওয়া যায়নি এখনও$

  3. এক কিউমেক হল প্রতি সেকেন্ডে এক ঘনমিটার প্রবাহ$

  4. এই আনুমানিক হিসাব দেওয়া হয়েছে Water Resource and its Quality in West Bengal (West Bengal Pollution Control Board, Kolkata, 2009) রিপোর্টে$

  5. এই আনুমানিক হিসাব দেওয়া হয়েছে Integrated Water Resource Development – A Plan for Action (National Council of Integrated Water Resource Development, Government of India, 1999) রিপোর্টে$

  6. এই তথ্য নেওয়া হয়েছে District Statistical Handbook (Department of Statistics and Economics, Government of West Bengal, 1995, 2008) থেকে$

  7. বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাতের তথ্য পাওয়া যাবে Water Resource and its Quality in West Bengal (West Bengal Pollution Control Board, Kolkata, 2009) থেকে$

  8. এই আনুমানিক হিসাব দেওয়া হয়েছে Water Resource and its Quality in West Bengal (West Bengal Pollution Control Board, Kolkata, 2009) রিপোর্টে$

  9. Dynamic Ground Water Resources of India (Central Ground Water Board, Ministry of Water Resources, Government of India, 2011)এর ম্যাপে এই ব্লকগুলিকে জলস্তর নেমে যাওয়ার এলাকাভুক্ত করা হয়েছে$

  10. এই তথ্য নেওয়া হয়েছে Review of Performance of Hydropower Stations (Hydropower Planning and Investigation Division, Central Electricity Authority, Ministry of Power, Government of India, 2007) থেকে$

  11. Census of India 2011: Provisional Population Totals, West Bengal (Directorate of Census Operations, Governmnent of India, 2011)$

  12. কাজের অগ্রগতি বা লোকের উপকার যেমনই হয়ে থাকুক, তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পটির আন্তর্জাতিক গুরুত্ব ও দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয়তা বিচার করে একে জাতীয় প্রকল্পএর মর্যাদা দেওয়া হয় ২০০৯ সালে$ সরকারি অর্থের সংস্থানের সময় জাতীয় প্রকল্প অগ্রাধিকার পায়$

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s