বিপর্যয়ের একমাস পর কেমন আছে কেদারঘাটির মানুষ

শ্রীমান চক্রবর্তী ও শমীক সরকার

 লাপতা

$ হৃষিকেশের মূল বাসস্টপ লাপতা পোস্টারে ছয়লাপ দেখে চমকে উঠলাম$ কেদারনাথের বিপর্যয়ের যে কথা এতদিন খবরের কাগজে বা টিভিতে জেনেছি, তার সাক্ষাৎ পরিচয় আমাদের হল এইভাবেই$ রঙিন, সাদাকালো, জেরক্স, হাতে লেখা হরেক রকম পোস্টার, বিভিন্ন বয়ান, কোনোটাতে ফ্যামিলি ফোটোগ্রাফ তো আবার কোনোটা কেবল পাসপোর্ট ছবি$ মূল বক্তব্য একটাই কেদারনাথের বিপর্যয়ে হারিয়ে গেছে ছবির মানুষটি, নাম এই, বয়স এই$ সন্ধান চাই$ কোথাও কোথাও সন্ধান দেওয়ার ইনামও লেখা আছে$ এক লক্ষ টাকা অবধি ইনাম তো হামেশাই চোখে পড়ল$ একটা বিজ্ঞাপনও দেখলাম, স্থানীয় একটি ফোটোগ্রাফির দোকানের$ তারা বিনা পয়সায় (ফ্রিতে) কেদারে নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধান চেয়ে পোস্টার বানিয়ে দেবে$ আমাদের যাত্রাসঙ্গী, ছাত্র আন্দোলনের কর্মী কাটোদরের কুমায়ুনি যুবক পঙ্কজ বাওয়ারি বলল, এগুলোর ছবি তুলে রাখো!

$ বাসের জানলা থেকে জঙ্গলের রাস্তার পাশে চরে বেড়ানো কতকগুলো ষাঁড়কে দেখিয়ে পঙ্কজ বলল, ওই বলদগুলোর কোনো মালিক নেই$ উত্তরাখণ্ডে বিজেপি সরকারের আমলে গোহত্যা নিষিদ্ধ হয়েছে$ এখনকার কংগ্রেস সরকার এসে তা বহাল রেখেছে$ ফলে বলদ বেচাকেনা করা যায় না আগের মতো$ কিন্তু বলদ পোষার মতো ক্ষমতা যাদের নেই, তারা কী করবে? তারা বলদগুলোকে বাড়ি থেকে প্রচুর দূরে এনে ছেড়ে দেয়$ যদি বলদ কাউকে দিতে হয়, তাহলে বলদের সঙ্গে তাকে কয়েক হাজার টাকাও দিতে হয়$

বিস্তারিত পড়ুন

উত্তরাখণ্ডের বিপর্যয় এবং পুনর্গঠন

 

মেহের ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ইন্দ্রনীল সাহার লেখা

 

উত্তরাখণ্ডের বিপর্যয় নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম মেহের ইঞ্জিনিয়ারের সাথে$ মূলত আমাদের উদ্দেশ্য ছিল বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি সম্পর্কে জানাবোঝা$ তার মধ্যে প্রাথমিক বিষয়টা ছিল এই ভয়াবহতার কারণ কী? আলোচনার শুরুতেই আমরা বলি, বিপর্যয়টা শুধুমাত্র উত্তরাখণ্ডেই সীমাবদ্ধ ছিল না$ বিপর্যয়ের বিশালতা রাজনৈতিক সীমারেখা মেনে চলেনি$ হিমালয়ের আশ্রয়ে থাকা ওই অঞ্চলের সমস্ত জায়গাই তার সীমার মধ্যে ছিল$ তারও আগে আমরা জানতে চাই এই বিপর্যয়টা কেন হল?

মেহেরদা কথা শুরু করলেন একটা শব্দের গল্প দিয়ে$ শব্দটা ২০০৫ সালের আগে আমাদের ভাষার মধ্যে ছিল না$ শব্দটা হল Cloudburst$ মুম্বাইয়ের Cloudburstএর আগে এই শব্দটা আমাদের, সমতলের মানুষদের ভাষার মধ্যে ছিল না$ তারপর লেহ্‌এর ঘটনা$ তার মানে কিন্তু এই নয় যে Cloudburstছিল না$ গোটা হিমালয় অঞ্চলেই Cloudburstএকটি সাধারণ ঘটনা$ পাহাড়ি মানুষরা জানে Cloudburstহবে, যখন হবে তখন নদী তেড়ে নেমে আসবে কারণ নদী ওখানে নালার মতো$ চওড়ায় অনেক কম$ সমতলের একূলওকূল নদীর সাথে তার কোনো তুলনাই করা চলে না$ সুতরাং Cloudburstএকটি সাধারণ ঘটনা এবং আদৌ অপ্রত্যাশিত নয়$ মেহেরদা বলে চললেন আমি যখন দেরাদুনে ছিলাম, ১৯৭০এর দশকে, আমি দেখতাম জুন মাসে বৃষ্টি আসতই না, জুলাইয়ে মাঝে মাঝে আসত, বর্ষা আসত আগস্ট থেকে$
বিস্তারিত পড়ুন